হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদী (রহ.) তাঁর নির্বাচিত বক্তব্যে “আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করলে মুমিনদের চূড়ান্ত বিজয়”—এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন, যা পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
তিনি বলেন, যখন তিক্ত ও হতাশাজনক ঘটনাবলি মানুষকে এই দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় যে— আমরা কি শেষ পর্যন্ত কাফির ও আল্লাহর শত্রুদের কাছে পরাজিত হয়ে যাব— ঠিক তখন পবিত্র কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:
وَاذْکُرُواْ إِذْ أَنتُمْ قَلِیلٌ مُّسْتَضْعَفُونَ فِی الأَرْض
“আর স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প এবং পৃথিবীতে দুর্বল ও নিপীড়িত।” [সূরা আল-আনফাল: ২৬]
তিনি আরও বলেন, নবুয়তের প্রথম দশকে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সেই অল্পসংখ্যক মুসলমানকে এতটা নির্যাতন করা হতো যে, তাদের কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হাবশায় হিজরত করেন, আবার কেউ বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটান। অথচ সেই দুর্বল অবস্থান থেকেই আল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেন এবং শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন।
অতএব, একদিকে যেমন আমাদের দুর্বলতা ও শত্রুদের অগ্রগতিতে আমাদের হতাশ হওয়া উচিত নয়, অন্যদিকে নিজেদের সাফল্যেও আমাদেরকে অহংকারে ডুবিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের বক্তব্য এমন হওয়া উচিত— যা মানুষকে তিক্ত ঘটনা, শয়তানের প্রভাব ও শত্রুদের শক্তি দেখে হতাশ না করে। একই সঙ্গে অতীতে আল্লাহ যে অনুগ্রহ ও সাহায্য করেছেন, সেগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন—যাতে মানুষ আশাবাদী হয় এবং বিশ্বাস রাখে যে ভবিষ্যতেও আল্লাহ তাঁর দয়া অব্যাহত রাখবেন।
আল্লাহ তাআলা একই আছেন এবং তাঁর বিধান ও সুন্নাতও অপরিবর্তনীয়। পরিবর্তন আসে কেবল আমাদের মধ্যেই। আমরা যদি আল্লাহর নির্ধারিত সুন্নাতের উপযোগী যোগ্যতা অর্জন করি, তবে তাঁর রহমত আমাদের ওপর নেমে আসে। আর যদি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং আল্লাহকে ভুলে যাই, তবে কখনো কখনো সতর্কতামূলক শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।
সূত্র: মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদীর বক্তব্য, ৭ মে ২০১৮ (ইরানি তারিখ: ১৩৯৭/০২/০৭)
আপনার কমেন্ট